বিরাম / যতি / ছেদ চিহ্ন

সংগাঃ বাক্যকে সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য বাক্যেও মধ্যে বা শেষে বাক্যের অর্থ, আবেগ, জিজ্ঞাসা ইত্যাদি প্রকাশ করার জন্য যে সকল সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, তাকে বিরাম চিহ্ন বলে।

প্রাচীনকালে দুইটি বিরাম চিহ্ন ব্যবহৃত হত। (।) দাড়ি,(।।) দুই দাড়ি। ১৮৫৭ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তার বেতাল পঞ্চবিংশতি বইয়ে ইংরেজী ভাষার অনুকরনে প্রথম স্বার্থক ভাবে বিরাম চিহ্নের ব্যবহার করেন। বিরাম চিহ্নবাক্য তত্ত্বে ব্যবহৃত হয়।

ক্র. বিরাম বা যতির নাম আকৃতি বিরতির সময় মন্তব্য
কমা / পাদচ্ছেদ , এক বলতে যতটুকু সময় লাগে  
উদ্ধরণচিহ্ন ” ” ’ ’ এক বলতে যতটুকু সময় লাগে  
সেমিকোলন ; এক বলার দ্বিগুন সময়  
দাড়ি / পূর্ণছেদ ১ সেকেন্ড প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন
প্রশ্নবোধক ? ১ সেকেন্ড প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন
আশ্চর্যবোধক / বিষ্ময় / সম্মোধন ! ১ সেকেন্ড প্রান্তিক বিরাম চিহ্ন
কোলন ১ সেকেন্ড  
কোলনড্যাস ঃ- ১ সেকেন্ড  
ড্যাস ১ সেকেন্ড  
১০ ইলেক / লোপচিহ্ন থামার প্রয়োজন নেই  
১১ সংযোগ চিহ্ন বা হাইফেন _ থামার প্রয়োজন নেই পদ সংযোগ চিহ্ন
১২ বন্ধনী () {} [] থামার প্রয়োজন নেই  

১। এক চ্চারণ রার সময়।( = উদ্ধরণচিহ্ন, = কমা)
২। এক বলার দ্বিগুন ময়। ( = সেমিকোলন)
৩। কোকোদাবিডা ১ সেকেন্ডে জিজ্ঞাসা কর।
(কো = কোলন, কো = কোলনড্যাস, দা= দাড়ি, বি = বিস্ময়সূচক, ডা = ড্যাস, জি = জিজ্ঞাসাচিহ্ন)
৪। হাইফেনের ব্যবহার থামেনি।
(হা = হাইফেন, = ইলেকচিহ্ন, ব্য = ব্যকরনিকচিহ্ন, = বন্ধনী)

১। কমাঃ বাক্যের মধ্যে যেখানে সামান্য থামতে হয় সেখানে কমা বসে। যেমন- বই, কলম, পেনসিল যত্ন করে তুলে রাখ।
ক) এক জাতীয় কয়েকটি বিশেষ্য, বিশেষন, ক্রিয়াপদ একসাথে বসলে সর্বশেষটির পূর্বে ’এবং’ ’বা’ ’ও’ বসে। শেষের দুইটি ছাড়া সব কয়টির পর কমা বসাতে হয়। যেমন- ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বাংলাদেশের চারটি অন্যতম জেলা।
খ) বাক্যে কয়েকটি অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাদের সব কয়টির পর কমা বসাতে হয়। যেমন- সে বাড়ি এসে, বই পড়ে, খেলা করতে মাঠে গেছে।
গ) সম্মোধন এর পর কমা বসে। যেমন- আরিফ, এদিকে আস।
ঘ) জটিল ও যৌগীক বাক্যের মাঝে প্রত্যেকটি খন্ডবাক্যের পরে কমা বসে। যেমন- যদি তুমি আস, তবে আমি যাব।
ঙ) উদ্ধরণ চিহ্নের পূর্বে কমা বসে। যেমন- কামাল বলল, ’সে স্কুলে যাবে না।’
চ) মাসের তারিখ লিখতে বার ও মাসের পর কমা বসবে। যেমন- ১৩ই পৌষ, বুধবার, ১৪১৩ সাল।
ছ) ঠিকানা লিখতে কমা ব্যবহার করতে হয়। যেমন- ৭৩, দিলকুশা, ঢাকা।
জ) ডিগ্রি পদবী লেখার সময় কমা ব্যবহৃত হয়। যেমন- ডক্টর রফিক, পিএইচডি

২। উদ্ধরণ চিহ্নঃ অন্যেও কথা ঠিক একই ভাবে লিখতে এ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন- রহিম বলেছিল, ”তোমরা প্রতিদিন মাঠে খেলতে আসবে”। যদি উদ্ধৃতির ভেতওে আরেকটি উদ্ধৃতি থাকে তবে প্রথমটি দুই উদ্ধৃতি চিহ্ন এবং ভেতরেরটি এক উদ্ধৃতি চিহ্ন হবে। প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতার নামে দুই উদ্ধৃতি চিহ্ন হয়।

৩। সেমিকোলনঃ কমার চেয়ে বেশী কিন্তু দাড়ির চেয়ে কম বিরতির প্রয়োজন হলে দাড়ি ব্যবহৃত হয়। যেমন- সে ভাল নাচত; ভাল গাইতো।

৪। দাড়িঃ বাক্যের সমাপ্তি বোঝাতে দাড়ি হয়। যেমন- আমি ঢাকা যাব। কবিতায় কখনও কখনও দুই দাড়ি হয়।

৫। প্রশ্নবোধকঃ বাক্যে কোনকিছু জিজ্ঞাসা করা হলে বাক্যের শেষে প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়। যেমন- তুমি খাবে? সন্দেহ আছে এমন শব্দের শেষে বন্ধনীর মধ্যে প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেওয়া হয়। যেমন- তিনি ১৯৮৫ (?) সালে জন্মগ্রহন করেন।

৬। আশ্চর্যবোধকঃ অনুভুতি প্রকাশের জন্য বিস্ময়সূচক চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। বা! কী সুন্দর দৃশ্য।

৭। কোলনঃ কোন উদাহরন দেওয়া বা কোন কথা ভালভাবে বোঝানোর জন্য এবং এশটি অপূর্ণ বাক্যের পর অন্য একটি বাক্য লিখতে কোলন চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন- উদ্দেশ্যঃ যার সম্পর্ক্যে কোন কিছু বলা হয়। সভায় ঠিক হলঃ এক মাস পর আবার সভা বসবে।

৮। কোলনড্যাসঃ উদাহরণ বা দৃষ্টান্ত বোঝাতে কোলন ড্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- বচনঃ- সংখ্যা নির্দেশ করে।

৯। ড্যাসঃ যৌগীক বা মিশ্র বাক্য লেখার সময় শব্দের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে ড্যাস ব্যবহৃত হয়। যেমন- দরিদ্রের উপকার কর – এতে সম্মান যাবে না – বাড়বে। এছাড়া উদাহরণ দেওয়ার সময় এ চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ- আম, জাম, কাঠাল।
১০। ইলেক / লোপ চিহ্নঃ কোন বিলুপ্ত বর্ণের পরিবর্তে লোপ চিহ্ন বসে। যেমন- দু’টি টাকা দাও।(দুইটি)

১১। হাইফেনঃ সমাসবদ্ধ পদের দুইটি পদকে একসাথে যোগ করতে দুইটি পদের মাঝে হাইফেন বসে। যেমন- বাবা-মা, সুখ-দুঃখ।

১২। বন্ধনীঃ বাক্যের অন্তর্গত কোন অংশের ব্যাখ্যা করতে বন্ধনী চিহ্ন ব্যবহৃত হয়। যেমন- তিনি ত্রিপুরা (বর্তমানে কুমিল্লা) জেলায় জন্মগ্রহন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!