বিভক্তি

সংগাঃ বাক্যে ব্যবহৃত শব্দগুলো একে অপরের সাথে সম্পর্ক্য স্থাপরের জন্য শব্দের শেষে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়। এই শব্দাংশ গুলোকেই বিভক্তি বলা হয়। বিভক্তি বাক্যের অর্থ নির্দিষ্ট করে। সেজন্যই বাংলা বাক্য বিভক্তি প্রধান।
উদাহরণঃ শিশু মাঠ ফুটবল খেলা।
বাক্যটিতে কোন বিভক্তি যুক্ত নেই এবং বাক্যটি পূর্ণাঙ্গ মনের ভাব প্রকাশে ব্যর্থ। এখন উপরোক্ত বাক্যে বিভক্তি যুক্ত করলে বাক্যটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হয়।
শিশুরা মাঠে ফুটবল খেলছে।
শব্দগুলোর মধ্যে পারষ্পারিক সম্পর্ক্যরে মাধ্যমে একটি বাক্য তৈরী হল। আর শব্দগুলো একেকটি পদ হল। শব্দের সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হলে তাকে পদ বলে। বাক্যে বিভক্তি ছাড়া কোন পদ থাকেনা। তাই কোন শব্দে যদি বিভক্তি যুক্ত না হয়, তাকেও শূণ্য বিভক্তি যুক্ত করা হয়। উপরের বাক্যে ফুটবল শব্দে কোন বিভক্তি যুক্ত হয়নি তাই ধরে নিতে হবে এই শব্দে শূণ্য বিভক্তি যুক্ত হয়েছে।
বিভক্তি প্রধানত দুই প্রকারঃ
 নাম বা শব্দ বিভক্তি।
 ক্রিয়া বিভক্তি।
নাম বা শব্দ বিভক্তিঃ শব্দ বা নাম পদের সাথে যেসব বিভক্তি যুক্ত হয়, তাকে শব্দ বিভক্তি বলে।
যেমন- দরিদ্রকে দান কর (দরিদ্র + কে)
ক্রিয়া বিভক্তিঃ ধাতু বা ক্রিয়াপদের সাথে যেসব বিভক্তি যুক্ত হয়, তাকে ক্রিয়া বিভক্তি বলে।
যেমন- তিনি বাড়ি যাবেন (যা+বেন)
শব্দ বিভক্তির সাথে কারকের এবং ক্রিয়া বিভক্তির সাথে কাল ও পুরুষের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক্য রয়েছে।
খাঁটি বাংলা শব্দ বিভক্তিঃ ০, এ(য়), তে(এ), কে, রে, র, এরা।
অব্যয় শব্দঃ দ্বারা, দিয়ে, হতে, থেকে।

নাম বা শব্দ বিভক্তি আবার ৭ প্রকারঃ

বিভক্তি একবচন বহুবচন
প্রথমা শূণ্য (০), অ রা, এরা, গুলি(গুলো), গণ
দ্বিতীয়াকে, রে, এরে দিগকে, দেরকে, দিগেরকে, দিগেরে, দের
তৃতীয়া দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক দিগকে দ্বারা, দের দিয়া, দিক কর্তৃক
চতুর্থীকে, রে, এরে দিগকে, দেরকে, দিগেরকে, দিগেরে, দের
পঞ্চমীহতে, থেকে, চেয়ে দিগ হইতে, দের হইতে, দের থেকে, দিগের চেয়ে
ষষ্ঠী র, এরদের, দিগের, গুলির, গুলোর, বৃন্দের
সপ্তমীএ, অ, তে, এতেদিগে,দিগেতে, গুলিতে, গুলোর মধ্যে, গণের মধ্যে

 চতুর্থী বিভক্তি শুধুমাত্র সম্প্রদান কারকে ব্যবহৃত হয়।
 বচনভেদে বিভক্তির আকৃতি পরিবর্তীত হয়।
 বিভক্তির নাম কখনও সংক্ষিপ্তভাবে লেখা যাবেনা। অর্থাৎ তৃতীয়াকে ৩য়া লেখা যাবেনা।
 বিভক্তি চিহ্ন সুস্পষ্ট না হলে সেখানে শূণ্য বিভক্তি আছে মনে করা হয়।


বিভক্তি যোগের নিয়মঃ
 অপ্রানীবাচক ও ইতর প্রানীবাচক শব্দের বহুবচনে ’রা’ যুক্ত হয়না; গুলি, গুলো যুক্ত হয়। যেমন- পাথরগুলো, গরুগুলি।
 বস্তুবাচক শব্দের উত্তরে ’কে’ বা ’রে’ বিভক্তি যুক্ত হয়না, শূণ্য বিভক্তি হয়। যেমন- কলম দাও।
 স্বরান্ত শব্দের উত্তর ’এ’ বিভক্তির রূপ হয় ’য়’ বা য়ে। ’এ’ স্থানে ’তে’ বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে। যেমন- মা + এ = মায়ে, ঘোড়া + এ = ঘোড়ায়, পানি + তে = পানিতে।
 অ – কারান্ত ও ব্যঞ্জনান্ত শব্দের উত্তর প্রায়ই ’রা’ স্থানে ’এরা’ হয়। এবং ষষ্ঠী বিভক্তির ’র’ স্থলে ’এর’ যুক্ত হয়। যেমন- লোক + রা = লোকেরা, বিদ্বান + রা = বিদ্বানেরা, মানুষ + এর = মানুষের।
 অ – কারান্ত, এ – কারান্ত এবং আ – কারান্ত খাটি বাংলা শব্দের ষষ্ঠীর একবচনে সাধারনত ’র’ যুক্ত হয়, এর যুক্ত হয়না। যেমন- বড়র, মামার, ছেলের।


বিভক্তির উদাহরণঃ
 প্রথমাঃ রহিম বাড়ি যায়, ঘোড়াকে চাবুক মার।
 দ্বিতীয়াঃ বশিরকে যেতে হবে, ধোপাকে কাপড় দাও।
 তৃতীয়াঃ ফেরদৌসী কর্তৃক শাহানামা রচিত হয়েছে, তার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
 চতুর্থীঃ ভিক্ষারিকে ভিক্ষা দাও, দরিদ্রকে দান কর।
 পঞ্চমীঃ গাছ থেকে পাতা পড়ে, বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
 ষষ্ঠীঃ আমার যাওয়া হয়নি, ভিক্ষুকদের ভিক্ষা দাও।
 সপ্তমীঃ পাগলে কিনা বলে, মেঘে বৃষ্টি হয়।

One thought on “বিভক্তি

  • June 11, 2020 at 12:18 pm
    Permalink

    অনেক ভাল হয়েছে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!